চলতি ঘটনা | 20.11.2008
কঙ্গোর বিদ্রোহীরা সেনা সরিয়ে নিতে শুরু করেছে
পুর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বিদ্রোহীরা কয়েকটি এলাকা থেকে তাদের সেনা সরিয়ে নিতে শুরু করেছে বলে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে৷
এদিকে গৃহযুদ্ধের শিকার শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছেন নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ীরা৷
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বিদ্রোহী টুটসিরা সেখানকার দুটি জায়গা থেকে তাদের সেনাদের সরিয়ে নিতে যাচ্ছে৷ জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে৷ এর আগে লরঁ এনকুন্ডার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী বাহিনী এমন একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো৷
কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের জাতিসংঘ শান্তি মিশনের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল জ্যঁ পল ডিট্রিশ বার্তা সংস্থা ডিপিএকে জানিয়েছেন যে ইতিমধ্যে বিদ্রোহী বাহিনী তাদের সেনাদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে৷ তিনি আরও জানিয়েছেন যে তারা ইতিমধ্যে সকাল থেকে সেসব এলাকায় টহল দেয়ার কাজও শুরু করেছেন৷ উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহে লরঁ এনকুন্ডার নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল কংগ্রেস ফর দ্য ডিফেন্স অব দ্য পিপল বা সিএনডিপি বাহিনী কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলের উত্তর কিভু প্রদেশ থেকে সরকারী বাহিনীকে হটিয়ে দিয়েছে এবং সেখানে তাদের দখল প্রতিষ্ঠা করেছে৷ কিন্তু মঙ্গলবার তার পক্ষ থেকে বলা হয় যে তারা অবিলম্বে বিদ্রোহী সেনাদের বর্তমান অবস্থান থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে কানিয়াবায়োংগা নিয়ানজালে এবং কাবাশা কিওয়ানজা এলাকায় সরিয়ে নেবেন৷ সিএনডিপির নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয় এই নিরপেক্ষ এলাকা এজন্য তৈরী করা হচ্ছে যে ওই এলাকায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন থাকবে৷
এদিকে একদিকে যখন বিদ্রোহীরা তাদের সেনা সরিয়ে নিচ্ছে অপরদিকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের পক্ষ থেকে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে আরও বেশী করে সেনা পাঠানোর কথা বলা হচ্ছে৷ ইতিমধ্যে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে জাতিসংঘে একটি খসড়া প্রস্তাবও তোলা হয়েছে যাতে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে আরও তিন হাজার সেনা পাঠানোর কথা বলা হয়েছে৷ আগামী সপ্তাহে এ প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হবে বলে আশা করা হচ্ছে৷
এদিকে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে সরকারী ও বিদ্রোহী বাহিনীর মধ্যে যে গৃহযুদ্ধ চলছে তার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে সেখানকার শিশুদের ওপর৷ চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে সেখানকার লাখ লাখ শিশু এখন তাদের মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত৷ এসব শিশুকে রক্ষা করতে গোটা বিশ্ব বাসীর প্রতি আহ্বান রেখেছেন ৩১ জন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী৷ এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছেন, গৃহযুদ্ধের কারণে কঙ্গো সহ গোটা বিশ্বে প্রায় তিন কোটি ৭০ লাখ শিশু শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে৷ এসব শিশুর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখা এসব নেতৃবৃন্দ৷ জাতিসংঘ শিশু অধিকার দিবসকে সামনে রেখে এই প্রথম একসঙ্গে এতজন নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ী এমন বিবৃতি প্রকাশ করলেন৷
















