1. খোঁজ
  2. ৩০টি ভাষার মধ্যে বেছে নিন

 
 
 

 

সংস্কৃতি বিনোদন | 19.11.2008

হামবুর্গে দক্ষিণ এশিয়া দিবস

ইউরোপের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার সেতুবন্ধ রচনার লক্ষ্যেই সম্প্রতি জার্মানির হামবুর্গে অনুষ্ঠিত হলো দক্ষিণ এশিয়া দিবস৷ হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের এশিয়া-আফ্রিকা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেই জমে ওঠে এই আয়োজন৷

জার্মানিতে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক সংগঠন- সার্কভূক্ত দেশ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভূটান, শ্রীলংকা ও আফগানিস্তানের বিভিন্ন সংগঠন, ফোরাম, কূটনীতিবিদ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী অংশ নেন এতে৷ তাছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ প্রবাসীদের আনাগোনা তো ছিলই৷ এমনকি জার্মান ,প্রবাসী জাপানী, কোরীয়রাও এসেছিলো অনুষ্ঠানে৷ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নিজ নিজ দেশের ঐতিহ্য মেলে ধরতে ছোট খাট স্টল নিয়ে বসেন কেউ কেউ৷ দিনভর ছিলো উত্‌সবের আমেজ৷

দক্ষিণ এশিয়া দিবসের আয়োজক হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা রুশ বংশোদ্ভূত ডক্টর তাতিয়ানা ওরানস্কায়া জানালেন কেন এই অনুষ্ঠান৷ বললেন, দক্ষিণ এশিয়া, সেখানকার বিভিন্ন সংস্কৃতিতে মিল-অমিল, সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন সম্পর্কে এখানকার লোকজনকে জানাতে আমরা এই আয়োজন করে আসছি৷ দক্ষিণ এশিয়া যে আলাদা একটি অঞ্চল সেই ধারণাটিই অনেকের নেই৷ দক্ষিণ এশিয়া বললে ধরে নেয়া হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া৷ দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়াও যে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে সেটা আমরা জানাতে চাচ্ছি৷ এছাড়া, এই হামবুর্গেই অনেকে আছে যারা গবেষণা কিংবা পড়াশোনার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়াকে জেনেছে৷ তাই এর সঙ্গে বাস্তবতার সমন্বয় ঘটানোও এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য৷

এবারের অনুষ্ঠান সাজানো হয় বেশ কয়েকটি পর্বে৷ গুরুগম্ভীর আলোচনার পাশাপাশি ছিলো খাওয়া-দাওয়া আর বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানও৷ সকালের পর্বজুড়ে ছিলো দক্ষিণ এশিয়ার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে রাজনীতি ও ধর্মের প্রভাব নিয়ে আলোচনা৷ এতে অংশ নেন জার্মানিতে নিযুক্ত দক্ষিণ এশীয় দেশের কূটনীতিকরাও৷ এর পর দুপুর নাগাদ চলে শিক্ষক, সাংবাদিক, গবেষক আর বিজ্ঞানীদের প্যানেল আলোচনা৷ সার্ক অঞ্চলে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকলেও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যে উত্তেজনা ও অস্থিরতা সেসব বিষয়ে মতবিনিময় করেন তাঁরা৷

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পাকিস্তানের ডক্টর আসলাম সাইদ৷ তাঁর মতে, প্রত্যেক দেশ কিংবা সমাজেই ধর্ম ও রাজনীতি এ দুটো খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান৷ প্রশ্ন হলো, এর মাত্রাটা নিয়ে৷ অনেক দেশ কিংবা সমাজে একে খুব কঠোরভাবে ব্যবহার করা হয়৷ এর মাধ্যমে শুধু এ দুটো প্রতিষ্ঠানেরই ক্ষতি হয় না, গোটা সামাজিক কাঠামোই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এতে৷ যখন কোন রাজনীতিবিদ টেকসই রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয় তখন তারা ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে৷ ধর্মকে শোষণ করে৷ আর এর শিকার যারা তারা আরো বেশি ঝুঁকে পড়ে ধর্মের দিকে৷ এছাড়া অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণও একটা বড় বিষয়৷ আর তা যদি দুটো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে হয় তাহলে তো কথাই নেই৷ সবশেষে যেটা বলবো সেটা হলো, নেতৃত্বে শূণ্যতা কিংবা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলেও ধর্মকে ব্যবহার করা হয় সবার আগে৷ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সংখ্যালঘিষ্ঠরাই৷

দুপুরে ছিল এশীয় মেনু নিয়ে খাওয়া দাওয়ার আসর৷ সেইসঙ্গে চলে জস্পেশ আড্ডা৷ বেশ ফুরফুরে মেজাজে শুরু হয় বিকেলের অনুষ্ঠান৷ পর্বটাও বেশ মজার৷ জন্ম, মৃত্যু, বিয়ের মতো জীবনের গুরুত্বপূর্ণ স্তরগুলোতে বিভিন্ন ধর্ম আর সংস্কৃতিতে যেসব আচার- অনুষ্ঠান এবং এসবক্ষেত্রে এখানকার সব সমাজেই যে মিল রয়েছে তাই তুলে ধরেন বক্তারা৷ সেই সঙ্গে প্রজেক্টরে প্রদর্শন করা হয় সে সম্পর্কিত অডিও ভিডিও ক্লিপ৷ মূলত নানা ভাষা সংস্কৃতি আর ধর্ম বর্ণের মিলন মেলা ছিলো এই দক্ষিণ এশিয়া দিবসে৷

অনুষ্ঠানের মূল চুম্বকটি ছিলো একেবারে শেষে৷ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান৷ দক্ষিণ এশিয়ার প্রবাসীদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সুদূর ভারত আর নেপাল থেকেও ছুটে যান অনেকে৷ নাচে গানে মাতিয়ে তোলেন দর্শক শ্রোতাদের৷

 

হাফসা হোসাইন

 
এই প্রতিবেদন অন্যদের পাঠান

আমাদের ই-মেল পাঠানঅন্যদের পাঠানপ্রিন্ট করুন

Weitere Schlagzeilen